হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ভাড়াটে বাহিনী ও বেসামরিক আধাসামরিক সদস্যরা রাজধানী মানামার পশ্চিমে অবস্থিত আদ-দিরাজ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা অবরোধ ও বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর ফলে টানা ৮৮তম সপ্তাহের মতো শিয়ারা কেন্দ্রীয় জুমার নামাজ আদায় করতে পারেননি।
ভাড়াটে বাহিনীর সদস্যরা সামরিক যানবাহন ও সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় ইমাম সাদিক (আ.) মসজিদ-এর চারপাশে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের ওপর আরোপিত নিরাপত্তা ও ধর্মীয় অবরোধের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য গণবিক্ষোভ প্রতিহত করা, রাজনৈতিক বন্দিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ রোধ করা এবং ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিরোধিতাকে দমন করা।
বাহরাইনের বিভিন্ন এলাকায়ও কঠোর নিরাপত্তা অবরোধ সত্ত্বেও গণবিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা “কারাগার খালি করার” এবং সকল শিয়া ধর্মীয় আলেম ও রাজনৈতিক বন্দিদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। তারা শিয়াদের জন্য জুমার নামাজ নিষিদ্ধ করা, ধর্মীয় বিষয়ে সরকারি নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং আশুরা (মহররম মাস) উপলক্ষে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর অব্যাহত বিধিনিষেধের নিন্দা করেন।
বিক্ষোভকারীরা শিয়াদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক নীতির অবসান, এবং জাফরি মাযহাবের সকল ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, প্রতিষ্ঠান ও নীতির বিরুদ্ধে আক্রমণ বন্ধের দাবি জানান।
তারা আরও বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদের আগ্রাসন প্রতিরোধে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থানের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইসলামী বিপ্লবের নেতা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।
বিক্ষোভকারীরা দেশে মার্কিন উপস্থিতির অবসান এবং বিদেশি সামরিক ঘাঁটি অপসারণেরও দাবি জানান, যাতে পূর্ণ জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়। তারা আরও জোর দিয়ে বলেন যে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি বাতিল, দেশ থেকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার এবং মানামায় অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস বন্ধ করা জরুরি।
বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ ৪ অক্টোবর ২০২৪ সাল থেকে জুমার নামাজ আয়োজন নিষিদ্ধ করেছে। লেবাননের শহীদ হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ-এর স্মরণে অনুষ্ঠান আয়োজন, লেবানন, ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
আপনার কমেন্ট